কারিগরি শিক্ষকদের আশার আলো, ১৪২ এমপিও ফাইল পুনর্বিবেচনায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
কারিগরি শিক্ষকদের আশার আলো, ১৪২ এমপিও ফাইল পুনর্বিবেচনায়

ফাইল ছবি

এমপিওভুক্তির জটিল শর্তের কারণে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন অনেক কারিগরি শিক্ষক। তবে অবশেষে সেই অচলাবস্থায় আশার আলো দেখা যাচ্ছে। আবেদন বাতিল হওয়া শিক্ষকদের জন্য শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এর ফলে বাতিল হওয়া এমপিও আবেদনগুলো পুনরায় অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের ৫০তম এমপিও কমিটির সভায় মোট ১৪২টি এমপিও আবেদন বাতিল করা হয়। কাম্য শিক্ষার্থী সংখ্যা, কাম্য পরীক্ষার্থী এবং কাম্য পাসের হার পূরণ না হওয়ায় এসব ফাইল বাতিল করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ আবেদনগুলো অনুমোদন দেয়নি।

সূত্রের তথ্যমতে, নতুন যোগদান করা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এসব শর্ত আরোপ না করার বিষয়টি এখন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শর্ত শিথিল হলে আগে বাতিল হওয়া এমপিও আবেদনগুলো পুনরায় এমপিওভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পিআইইউ প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান জানান, বাতিল হওয়া এমপিও আবেদনগুলোকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। এমপিও কমিটির পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে গত রোববার দুই দফা দাবিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। পরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী। বৈঠকে তিনি শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা জানান, ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একই প্যানেল থেকে নিয়োগ পেলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরভুক্ত শিক্ষক এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে এমপিও ও বেতন কাঠামোতে চরম বৈষম্য রয়েছে। মাউশি অধিভুক্ত শিক্ষকরা সময়মতো এমপিও সুবিধা পেলেও কারিগরি শিক্ষকদের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর এমপিও ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কাম্য শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও পাসের হার পূরণ না হওয়ার অজুহাতে অনেক এমপিও ফাইল বাতিল করা হয়েছে। অথচ এসব বিষয় নবীন শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং নিয়োগের সময় এসব শর্ত সম্পর্কে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না। ফলে এ সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও মানবিকতাবিরোধী বলে মনে করছেন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী সংকট একটি জাতীয় বাস্তবতা হলেও শুধুমাত্র কারিগরি শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে এসব শর্ত প্রয়োগ করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বর্তমানে ১৪২টি এমপিও ফাইল বাতিল অবস্থায় রয়েছে এবং আরও বহু ফাইল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বাতিল হওয়া সব ফাইলসহ এমপিও আবেদন করা সকল শিক্ষকের এমপিও দ্রুত কার্যকর করা এবং যোগদানের তারিখ থেকেই বেতন প্রদানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান তারা।

এসএইচ

Link copied!