ফাইল ছবি
ঢাকা: ঢাকার সরকারি সাত কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকট নিরসনে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করে স্বায়ত্তশাসিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের ঢাকা কলেজ শাখা সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ ও সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি বলেন, ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকায় অবস্থিত সাতটি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাবে গত কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফল প্রকাশে বিলম্ব, ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ সরকার সাত কলেজকে নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়।
২৪ এপ্রিল অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাধ্যমে কলেজগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিলেও অদৃশ্য কারণে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ আটকে রয়েছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও শ্রেণি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় ও অযৌক্তিক কালক্ষেপণের কারণে ভর্তি, পরীক্ষা, ফলাফল, সনদ প্রদানসহ শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ও পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ, হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নেতারা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছে না। তারা শুধু তাদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো চায়। তাদের ন্যায্য দাবিকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই।”
শেষে ছাত্রশিবির সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র খসড়া অধ্যাদেশ সংশোধন করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :