রাজধানীর বাড্ডায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুকে ঘিরে উঠে এসেছে জটিল ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত, যা তদন্তকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
রোববার সকালে নিজ বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোরের দিকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে একজন শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার এবং এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ফোনে কথা হয়েছিল। তবে সেই কলের তথ্য মুছে ফেলার বিষয়টি সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া নোটের ভাষ্য এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সহপাঠী ও পরিচিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ বলছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে এবং নিশ্চিতভাবে কিছু বলার সময় এখনো আসেনি।
এ ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এম
আপনার মতামত লিখুন :