রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানম একটি আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এই পোস্টে তিনি ব্যক্ত করেছেন গর্ব, বেদনা ও সংগ্রামের দীর্ঘ স্মৃতি—যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে “একজন গর্বিত বিপ্লবীর মা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পর থেকেই ছেলেকে নিজের ব্যক্তিগত পরিসরের বাইরে, বৃহত্তর দেশের মানুষের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, সন্তানের প্রতি ব্যক্তিগত মায়া-ভালোবাসার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা।
পোস্টে উঠে এসেছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাও। রাজনৈতিক কারণে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। সেই প্রেক্ষাপটে অল্প বয়সেই ছেলেকে নিরাপত্তার জন্য দূরে পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ছেলে আম্মারকে ঘিরে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, কেউ তাকে ঘৃণা করলে তা নীতির বিরোধিতা থেকেই করে, আর ভালোবাসলে তা দেশের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সহিংসতা তার সন্তানের ব্যক্তিজীবন ও অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারকে ঘিরে চাপ ও হুমকির কথাও তুলে ধরা হয়। এমনকি ছেলেকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ থাকলেও তিনি তা করতে পারেননি বলে জানান। বরং এখন তিনি সন্তানের পথচলার জন্য প্রার্থনা করেন এবং ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তার ভবিষ্যৎ।
পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে পোস্টে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন—নিকট আত্মীয়রাও এখন তার ছেলের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এতে রাজনৈতিক বিভাজনের গভীরতা স্পষ্ট হয়েছে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে রোকেয়া খানম দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইতিবাচক ও মানবিক রাজনীতি চর্চা করা জরুরি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে একদিন বাংলাদেশ আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
এই পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে—অনেকে এতে সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্ন মতও দিচ্ছেন।
এম
আপনার মতামত লিখুন :