জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১৬ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি কারিনার সাহস, মেধা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন।
ভারতের ভেলোরে খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৫ মে) মারা যান কারিনা কায়সার। দীর্ঘদিন ধরে লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, কারিনার সঙ্গে তার কখনো ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি। তবে একজন নারী হিসেবে তিনি উপলব্ধি করেন, এই সমাজে ক্যামেরার সামনে আত্মসম্মান নিয়ে টিকে থাকা কতটা কঠিন।
তিনি বলেন, একজন নারীকে তার চেহারা, কণ্ঠ, পোশাক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের মন্তব্য ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। সেই বাস্তবতার মধ্যেও কারিনা নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে সাহসের সঙ্গে কাজ করে গেছেন।
কারিনার রসবোধ ও সমাজ সচেতনতার প্রশংসা করে তাসনিম জারা লেখেন, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার হাস্যরস এসেছে বুদ্ধিমত্তা থেকে। সমাজে নারীদের ঘিরে থাকা নানা সংকীর্ণতা ও বিচারকে তিনি নিজের কনটেন্টে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতেন।
পোস্টে কারিনার অসুস্থতার সময় সামাজিক মাধ্যমে কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তাসনিম জারা। তিনি উল্লেখ করেন, কারিনা যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, তখনও কেউ কেউ তার অসুস্থতাকে ‘সৃষ্টিকর্তার শাস্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক।
তাসনিম জারা মনে করেন, কারিনার সামনে আরও অনেক সম্ভাবনা ছিল। তিনি লিখেছেন, “আমরা তার জীবনের মধ্যভাগ ও শেষ অধ্যায়—দুটো থেকেই বঞ্চিত হলাম।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি কারিনার উদ্দেশে লেখেন, “বিশ্রাম নাও, কারিনা। তোমার কারণে আমরা একটু বেশি সাহসী হওয়ার চেষ্টা করব।”
উল্লেখ্য, প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হলেও পরে কারিনার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে। হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া কারিনা কায়সার অভিনয় ও চিত্রনাট্যেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তার আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
এম
আপনার মতামত লিখুন :