সীমান্তে ১ জন বিজিবির বিপরীতে ২০ জন বিএসএফ সদস্য মোতায়েন কেন? 

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
সীমান্তে ১ জন বিজিবির বিপরীতে ২০ জন বিএসএফ সদস্য মোতায়েন কেন? 

ফাইল ছবি

গত ৩০ মে থেকে দেশের সীমান্তজুড়ে এক চরম উত্তেজনা ও অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে প্রতি একজন বিজিবি সদস্যের বিপরীতে ১৮ থেকে ২০ জন বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাত্র এক প্লাটুন বিজিবি সদস্যের বিপরীতে ভারতের পক্ষ থেকে পাঁচ থেকে ছয় প্লাটুন বিএসএফ সদস্য অবস্থান নিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রতিদিন পুশইনের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

সীমান্তের এই ভূকৌশলগত অবকাঠামোগত ব্যবধানও বেশ স্পষ্ট। বাংলাদেশের বিজিবি সদস্যদের পাহারা দেওয়ার ঘরগুলো যেখানে খরকুটো বা টিনের তৈরি, সেখানে বিএসএফের ওয়াচ টাওয়ার ও ক্যাম্পগুলো দুই থেকে তিনতলা ভবনের সমান উঁচু। ফলে উঁচু স্থান থেকে তারা সহজেই নজরদারি চালাতে পারছে এবং নতুন করে আরও পাকা কুঠির বা অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।

সীমান্তের এমন থমথমে ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমগুলোতে তেমন কোনো জোরালো খবর চোখে পড়ছে না। এমনকি সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএসএফের হামলায় দুই বাংলাদেশি যুবকের আহত হওয়ার একটি খবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করার পর তা সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, দেশের মিডিয়া যেন এক ধরণের কালো পর্দা দিয়ে সীমান্তের এই জ্বলন্ত সমস্যা থেকে সাধারণ মানুষের চোখ দূরে রাখতে চাইছে।

গণমাধ্যমের এই রহস্যজনক নীরবতার পাশাপাশি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা বা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে সরকারের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে আসা কিছু বক্তব্য সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি ও পুশইন নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেওয়া বক্তব্যকে অনেকেই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌমত্ববিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছেন। যেকোনো গণতান্ত্রিক ও সভ্য দেশ হলে এই ধরনের বক্তব্যের পর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হতো, কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তেমন কিছুই ঘটছে না।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যখন সরকারের নীতিনির্ধারকদের মুখ থেকেই এমন বক্তব্য আসে যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সীমান্ত হত্যা নয়-তখন তা বিএসএফের মারণাস্ত্র ব্যবহারের অপরাধকে এক প্রকার পরোক্ষ বৈধতা দেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই নমনীয় এবং নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই ভারত দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল লঙ্ঘন করার সাহস পাচ্ছে। দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে যখন প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা সরকারের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়, তখন সীমান্ত হত্যা কোনোদিনও বন্ধ হবে না।

স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই পররাষ্ট্রনীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা কেবল মুখে বুলি ছড়ানোর বিষয় নয়। বিএসএফের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সৎ সাহস সরকারকে দেখাতে হবে। একদিকে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি চাপ, অন্যদিকে সীমান্তের এই নতুন সংকট—সব মিলিয়ে দেশের সব মহল যদি এখনই এই পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার না হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। সূত্র: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

এসএইচ 

Link copied!