আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করেছি, মেডিকেল কলেজ নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করেছি, মেডিকেল কলেজ নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, অমানবিক সেবার কারণেই নির্দিষ্ট একটি হাসপাতাল বন্ধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতাল বন্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজটি বন্ধ করা হয়নি। ফলে সেখানকার শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে গিয়ে প্র্যাকটিস বা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাবেন।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, মানুষের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই সেবায় কেউ অনিয়ম করলে কিংবা রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, গত পরশু দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ থাকলেও গতকাল তা ১ হাজারে উঠেছে। অনেক সময় সাধারণ জ্বর হলেও হামের সন্দেহ করা হয়। তবে ল্যাব পরীক্ষায় সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কম—কখনো ৫, ৪ কিংবা ৩ জন আসছে।

হামজনিত মৃত্যুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলব না যে হামে কেউ মারা যাচ্ছে না, দুই-একজন মারা যাচ্ছে। তবে গত ২০ তারিখে যে টিকা দেওয়া হয়েছে, সেটির অ্যান্টিবডি তৈরি হতে অন্তত এক মাস সময় লাগে। যদি সময়মতো টিকা দেওয়া না হতো কিংবা ডাক্তার-নার্সরা নিরলস সেবা না দিতেন, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।’ তিনি যোগ করেন, দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফলভাবে চলছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত মাইকিং করে ডেকে ডেকে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় তামাকের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তামাক একটি মারাত্মক আসক্তি, যা মানুষের ঘুম নষ্ট করে, ক্ষুধা ও ওজন কমিয়ে দেয় এবং শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গেরই ক্ষতি করে। বিশেষ করে তামাকের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

তামাককে এখন শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের ফাঁক গলে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ

Link copied!