ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিলো ইইউ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিলো ইইউ

ফাইল ছবি

ঢাকা: ইরানের সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস।

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা ও তাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানোর ঘটনায় তেহরানের প্রতি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে ইইউ।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ ইস্যুতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ’র সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে— উল্লেখ করে কাজা কালাস বলেন, “কোনো প্রকার দমন-পীড়নকে ছাড় দেওয়া ইইউ’র নীতিবিরুদ্ধ। যে সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, সেই সরকার আসলে নিজের অজান্তে নিজের কবর খোঁড়ে।”

গত সপ্তাহে ফ্রান্স এবং ইতালি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে বলে জানা গেছে।

নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল ইইউ’র বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে এএফপিকে তিনি বলেন, “সম্প্রতি ইরানে আমরা যে রক্তপাত আমরা দেখলাম, তার প্রতিবাদ হিসেবে আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি। আন্দোলন দমনের নামে যে নিষ্ঠুরতা তেহরান দেখিয়েছে, তা সহ্যের অতীত।”

ইরানের চিরশত্রু ইসরায়েল এ পদক্ষেপের জন্য ইইউ-কে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘ইউরোপের এ পদক্ষেপ ঐতিহাসিক।”

ইসরায়েলের সরকারের অপর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ইইউ’র এ নিষেধাজ্ঞার ফরে আইআরজিসি সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো সহজ হবে।

এদিকে ইইউ-এর এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ-কে ‘গুরুতর কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধপরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সম্ভাব্য সেই বিপর্যয় এড়াতে যখন অনেক রাষ্ট্র কাজ করছে— সে সময় ইউরোপ সম্ভাব্য সেই বিপর্যয়ের আগুনে হাওয়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান প্রেক্ষিতে একটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত।”

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর আইআরজিসি গঠন করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা হিসেবে পরিচিতি পেলেও দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর চেয়ে আইআরজিসির মর্যাদা অনেক বেশি। ইরানের অর্থনীতি, সামরিক বিভাগ এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু প্রকল্পে আইআরজিসির গভীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ আছে।

এসআই

Link copied!