ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর প্রথমবারের মতো জাপান ও ফ্রান্স-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো পশ্চিমা ও জাপানি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের সুযোগ পেল।
দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা ও শিপ ট্র্যাকিং কোম্পানি মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের একটি কনটেইনার জাহাজ, জাপানের একটি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং ওমানের মালিকানাধীন তিনটি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি পার হয়।
268456
সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫০টির মতো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এসব জাহাজের সিংহভাগই ছিল ইরান, চীন বা ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই রুটটি বন্ধ করে দেয় এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বেছে বেছে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাতে থাকে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে বাণিজ্যিক চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল।
শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, জাপানের মিতসুই ওএসকে লাইন্সের সহমালিকানাধীন সোহারা এলএনজি নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ রুট দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করে। এটি যুদ্ধের পর উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা প্রথম জাপানি জাহাজ। এ সময় জাহাজটি তার ট্রান্সপন্ডারে নিজেকে ওমানের জাহাজ হিসেবে পরিচয় দেয়।
জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫টি জাপানি জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে এবং ঠিক কী কারণে বা কোন সমঝোতায় এই জাহাজটিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
একই দিন ফ্রান্সের শিপিং গ্রুপ সিএমএ সিজিএমের মালিকানাধীন মাল্টার পতাকাবাহী ক্রিবি নামের একটি কনটেইনার জাহাজও প্রণালিটি অতিক্রম করে। এটি যুদ্ধ শুরুর পর এই পথ পাড়ি দেওয়া প্রথম কোনো পশ্চিমা জাহাজ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফরাসি জাহাজটি ইরানের জলসীমার ভেতরে একটি অনুমোদিত রুট ব্যবহার করেছে, যেটিকে নৌ-বিশেষজ্ঞরা তেহরান টোল বুথ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই রুটে যাতায়াতের জন্য বড় অংকের ফি দাবি করেছিল। ফরাসি জাহাজটি গত শুক্রবার ওমানের মাসকাট উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালেও তখনো তাদের ট্রান্সপন্ডারে ‘ওনার ফ্রান্স’ বার্তা প্রচার করছিল।
এ ছাড়া ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্টের দুটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারও একই সময়ে পারস্য উপসাগর পাড়ি দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার চীন তাদের তিনটি জাহাজ পার হওয়ার পর তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও যুদ্ধের শুরু থেকে এই সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২২১টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে, যার ৬০ শতাংশই হয় ইরানের নিজস্ব অথবা ইরানগামী।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারণ সার তৈরির কাঁচামালের এক-তৃতীয়াংশই এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই এই প্রণালি খুলে দিতে পারে, তবে তার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
এসআই
আপনার মতামত লিখুন :