ফের ইরানে হামলার বিষয়ে জোরালোভাবে ভাবছেন অধৈর্য ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
ফের ইরানে হামলার বিষয়ে জোরালোভাবে ভাবছেন অধৈর্য ট্রাম্প

পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা আরও জোরালোভাবে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এখন ইরানের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প অনেক বেশি গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন। আলোচনার অগ্রগতি না হওয়া এবং তেহরানের অবস্থানে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি ক্রমেই অধৈর্য হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন সন্দেহ তৈরি করেছে। তাদের প্রশ্ন, তেহরান আদৌ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায় কি না।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। একটি অংশ মনে করছে, নতুন করে সামরিক হামলা চালালে ইরান আরও দুর্বল হবে এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়েও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকৃত অসন্তোষের বার্তা তেহরানের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তাগুলোই বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পাকিস্তান ও অঞ্চলটির কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট নয়। একই সঙ্গে তারা এটিকে ‘শেষ কূটনৈতিক সুযোগ’ বলেও সতর্ক করেছে। কিন্তু ইরান সেই সতর্কতাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এম

Link copied!