ক্ষেপণাস্ত্রহীন ইরানের পরিণতি হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ক্ষেপণাস্ত্রহীন ইরানের পরিণতি হতো গাজার মতো: পেজেশকিয়ান

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিকে গাজার মতো ধ্বংস করে দিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনো অবস্থাতেই আলোচনা করবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া এক বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, আত্মরক্ষার জন্য ইরানের হাতে যে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা না থাকলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই দেশটিকে ধ্বংস করে দিত। তার ভাষায়, তারা বৃদ্ধ কিংবা শিশু— কাউকেই রেহাই দিত না। তিনি আরও বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো শর্ত বা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি রাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের সময় আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা থেকেই ইরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। পরবর্তী কয়েক দশকে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরায়েল, যা ইরান থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে যখন এ ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, তখন ইরানকে সীমিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা খুব একটা ন্যায্য নাও হতে পারে। তথ্যসূত্র : আল আরাবিয়া

এসআই

Link copied!