ফাইল ছবি
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম শুক্রবার স্থিতিশীল ছিল। আগের সেশনে প্রায় ২ শতাংশ কমার পর স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৬.১০ ডলারে অপরিবর্তিত থাকে। তবে সপ্তাহের হিসাবে দাম ০.৭ শতাংশ বেড়েছে।
আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩.৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের ডিপ-বাইংয়ের কারণে স্বর্ণের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে যুদ্ধজনিত অনিশ্চয়তা, উচ্চ তেলের দাম এবং বাড়তে থাকা বন্ডের ফলন স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী গতিকে সীমিত রাখতে পারে।
স্বতন্ত্র ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওয়ং বলেন, স্বর্ণ ৩ হাজার ৯৫০ ডলারের আশপাশে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে সাময়িক বিক্রির চাপ দেখা দিতে পারে, তবুও বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলে তা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথিদের লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবির পর আগের দিন ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠা ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতির কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাই স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে বাজারের দৃষ্টি আগামী সপ্তাহের ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। যদিও সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি, সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী ট্রেডাররা সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে মূল্যায়ন করছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রূপার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭.৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৮২.৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৪.২৪ ডলারে নেমে এসেছে।
পিএস