নৌপথের সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন জোট

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৯:২২ এএম
নৌপথের সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির নতুন জোট

উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের প্রধান নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ দেশের একটি নতুন সামরিক জোট ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। মূলত বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজের অবাধ চলাচল নিরাপদ রাখতেই এই 'মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স' (বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট) গঠন করা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যৌথ সমুদ্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার একটি কাঠামো হিসেবে এই জোট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জোটে স্বাক্ষরকারী অন্য ১৩টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস।

তবে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদাররা এখন পর্যন্ত এই জোটে যোগ দেয়নি। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্যান্য দেশের জন্য এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

কেন এই জোট?

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই রুট দিয়ে পরিবহণ করা হতো, যা বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহার করে তেল রপ্তানি সচল রেখেছিল।

তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় হুথিরা, যার ফলে লোহিত সাগরের তেলবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই রিয়াদের নেতৃত্বে এই জোট গঠন করা হলো।

জোটের পরিধি ও কার্যক্রম

জোট গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউই) একটি প্রতিনিধি দলও ছিল। লোহিত সাগরে ইইউ-এর নিজস্ব নৌ-সুরক্ষা মিশন 'আসপাইডস' চালু থাকলেও, নতুন এই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে এর সমন্বয় কীভাবে হবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো কোন ধরনের যুদ্ধজাহাজ বা বিমান দিয়ে সহায়তা করবে তা নির্দিষ্ট করা না হলেও, জোটের মূল কার্যক্রম হবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং যৌথ নৌ-মহড়া পরিচালনা করা। জোটের সদর দপ্তর হবে সৌদি আরবেই। যৌথ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই জোটটি সম্পূর্ণভাবে 'প্রতিরক্ষামূলক' এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পণ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাব আল-মান্দাব প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া এই সরু প্রণালিতে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।সূত্র আল-জাজিরা

এম

Link copied!