সিরিয়াকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কালো তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সাথে হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএসকে দেওয়া বিশেষ বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তকমাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪) আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তা পাঠানোর পথ উন্মুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত এক বছরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা অর্থাৎ সাবেক আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির নেতৃত্বাধীন সিরীয় সরকার আইএস, আল-কায়েদা, হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ওয়াশিংটন, দামেস্ক ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এলো। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম বারাক এই ইসরায়েলি হামলাকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দেন এবং ইসরায়েল তুরুস্ককে যুদ্ধের দিকে টানার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের আমলে সিরিয়াকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে শারা ও ট্রাম্পের বৈঠকের পর এই তালিকাচ্যুতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। চ্যাথাম হাউজের সহযোগী গবেষক নাতাশা হল এই ঘটনাকে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সিরিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এম