ভারতে ইসি বিরোধী আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের নজিরবিহীন উপস্থিতি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
ভারতে ইসি বিরোধী আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের নজিরবিহীন উপস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দেশটির জেন-জি ও বিরোধী দলগুলো আন্দোলন শুরু করেছে। সাংবিধানিক কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের গণআন্দোলন দেশটিতে নজিরবিহীন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর আপত্তি সত্ত্বেও ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর পেছনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর।

দিল্লিতে সদ্য গড়ে ওঠা সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংবাদ সম্মেলন থেকে বামপন্থি নেতা নেহা বোরা জানান, ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা দেশের সবচেয়ে গুরুতর ইস্যু। গত ২ অক্টোবর মুম্বাইতে সিজেপির সমাবেশে প্রচুর তরুণ অংশ নেন। সেখানে তরুণদের স্লোগান ছিল জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো।

ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার দাবিতে গত ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন দফতরের কাছে আকাশবাণী ভবনে রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এ সময় তাকে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে তা দেশদ্রোহিতা।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভরত সংসদ সদস্যদের স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন, সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তলব করা সংবিধানবিরোধী। বুধবারও রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।

২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে বহু ভোটার বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, ফর্ম সিক্স-এ যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি। এই মন্তব্য ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রেস নোটে করা দাবির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক আমলারা বলছেন, এই আন্দোলন শুধু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নয়, বরং তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক সংকটেরও বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭৪ সালের জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলনের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। আগামী নির্বাচনগুলোতে এর প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হবে।

এসএইচ 

Link copied!