নেতানিয়াহুকে টপকে প্রধানমন্ত্রী পদে কে এই আইজেনকোট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
নেতানিয়াহুকে টপকে প্রধানমন্ত্রী পদে কে এই আইজেনকোট

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দেশটির রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটি অত্যন্ত সরল-তিনি নেতানিয়াহু নন।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনামলে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অসন্তোষকে পুঁজি করে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য সামরিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক সংগ্রাম এবং ৭ অক্টোবরের হামলা পরবর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আপসহীন অবস্থান।

মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সাধারণ এক সন্তান থেকে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোট। তাঁর পারিবারিক পটভূমি নেতানিয়াহুর অভিজাত পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৭৮ সালে গোলানি ব্রিগেডে যোগ দিয়ে ৪০ বছরের সামরিক জীবনে তিনি শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে সবসময় কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও যুদ্ধ-পরবর্তী স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাবে ২০২৪ সালের জুনে তা ত্যাগ করেন। একই সঙ্গে গাজায় অভিযানের সময় তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল এবং দুই ভাতিজার প্রাণহানি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছে। ছেলের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়, সেই অঙ্গীকারই এখন তাঁর রাজনৈতিক পথচলার মূল প্রেরণা।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ২০ থেকে ২৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়েও এগিয়ে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া মানেই সরকার গঠন নিশ্চিত নয়।

১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে ন্যূনতম ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। বাম, ডান ও মধ্যপন্থী দলগুলোর পাশাপাশি আরব দলগুলোর সমর্থন একত্র করা তাঁর জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ বিরোধী শিবিরের অনেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে নারাজ।

রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর নীতিগত পার্থক্যও স্পষ্ট। আইজেনকোট ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন এবং সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার পক্ষে কথা বলেছেন, যা অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের বিশেষ ছাড় পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথার বিরুদ্ধে বড় চ্যালঞ্জ। তবে নিরাপত্তা ও সামরিক নীতিতে তিনি খুব বেশি উদার নন।

গাজা, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযানকে তিনি সমর্থন করলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং জিম্মিদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন। ফিলিস্তিন প্রশ্নে তিনি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করলেও পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় সমীকরণ রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেও, নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী মিত্রদের এড়িয়ে আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারলে তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ সুগম হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুপ্রীতি ও তাঁর বিরোধিতার জাঁতাকলে দাঁড়িয়ে জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে আইজেনকোট সামনে এগোলেও, শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক জোট তৈরি করতে পারাই হবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এসএইচ 

Link copied!