রাশিয়া-ইউক্রেনের সামরিক শক্তির পার্থক্য কতটা?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২, ০২:৫৩ পিএম
রাশিয়া-ইউক্রেনের সামরিক শক্তির পার্থক্য কতটা?

ঢাকা: প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে পরাশক্তি রাশিয়া।বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে।  ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসায় রুশ সেনাবাহিনীর বোমা হামলায় প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেছেন, বন্দরনগরী ওডেসার বাইরের পোডিলস্ক শহরে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে রাশিয়ার বোমা হামলায় ৭ জন নিহত ও আরও সাতজন আহত হয়েছেন। 

এছাড়া বোমা হামলার পর থেকে পোডিলস্কে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৯ জন। মারিউপোল শহরে বোমা হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছে। 

অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে তারা পাঁচটি রুশ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “শান্ত থাকুন ও ইউক্রেনের রক্ষকদের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের সেনারাও রাশিয়ার সেনাদের সাথে অভিযানে যোগ দিচ্ছে, অর্থাৎ ইউক্রেনের উত্তর দিক থেকেও এখন আক্রমণ হচ্ছে।

বেলারুশ দীর্ঘদিন যাবত রাশিয়ার মিত্র। বিশ্লেষকরা এই ছোট দেশকে রাশিয়ার ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা মক্কেল রাষ্ট্র হিসেবে বলে থাকেন।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনের পূর্বে ‘তীব্র বোমা হামলা’ শুরু করেছে। ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে কিয়েভের কাছে বরিস্পিল বিমানবন্দরসহ একাধিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

মস্কোর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা এবং মিসাইল হামলা শুরু হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়।

চলুন দেখে আসি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক শক্তির পার্থক্য কতটা।

বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া দ্বিতীয়। ১৪০ দেশের এ তালিকায় ইউক্রেন রয়েছে ২২তম অবস্থানে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের সবশেষ তথ্যমতে, রাশিয়ার সৈন্য রয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার, ইউক্রেনের মাত্র দুই লাখ। তবে উভয় দেশের রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে আরও আড়াই লাখ করে। রাশিয়ার আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আড়াই লাখ, ইউক্রেনের ৫০ হাজার।

সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। রাশিয়ার আকাশযান রয়েছে মোট ৪ হাজার ১৭৩টি, ইউক্রেনের মাত্র ৩১৮টি। রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ৭৭২টি, ইউক্রেনের ৬৯টি।

রাশিয়ার হেলিকপ্টার রয়েছে ১ হাজার ৫৪৩টি, এর মধ্যে অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৫৪৪টি। অন্যদিকে ইউক্রেনের হেলিকপ্টার ১১২টি, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ৩৪টি।

রাশিয়ার কাছে ট্যাংক রয়েছে ১২ হাজার ৪২০টি, ইউক্রেনের ২ হাজার ৫৯৬টি। আমর্ড ভেহিকেল রাশিয়ার রয়েছে ৩০ হাজার ১২২টি, ইউক্রেনের ১২ হাজার ৩০৩টি। রাশিয়ার স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি ৬ হাজার ৫৭৪টি, ইউক্রেনের ১ হাজার ৬৭টি। রাশিয়ার মোবাইল রকেট প্রজেক্টর রয়েছে ৩ হাজার ৩৯১টি, ইউক্রেনের মাত্র ৪৯০টি।

সামরিক নৌযানের দিক থেকেও অনেক অনেক এগিয়ে রাশিয়া। রাশিয়ার কাছে ৬০৫টি সামরিক নৌযান থাকলেও ইউক্রেনের রয়েছে মাত্র ৩৮টি।

রাশিয়ার কাছে একটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। ইউক্রেনের কাছে তা নেই। রাশিয়ার কাছে ৭০টি সাবমেরিন থাকলেও ইউক্রেনের বহরে একটিও নেই।

ইউক্রেনের কোনো ডেস্ট্রয়ার নেই, যা রাশিয়ার রয়েছে ১৫টি। ইউক্রেনের ফ্রিগেট রয়েছে একটি, রাশিয়ার রয়েছে ১১টি। মাইন ওয়ারফেয়ার নৌযান ইউক্রেনের একটি থাকলেও রাশিয়ার রয়েছে ৪৯টি। রাশিয়ার করভেট রয়েছে ৮৬টি, যেখানে ইউক্রেনের রয়েছে মাত্র একটি।

এর বাইরে, রাশিয়া পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। কিন্তু ইউক্রেনের কাছে এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই। রাশিয়ার এস-৪০০ নামে অত্যন্ত শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ইউক্রেনের কাছে এমন কিছু নেই।

সোনালীনিউজ/আইএ

Link copied!