যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তেহরান থেকে বিবিসির এক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, চলমান আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথের পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলো ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

চলমান আন্দোলনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেন, বিদেশি শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এই বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরাও ইরান থেকে সরাসরি খবর সংগ্রহে গুরুতর বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

মূলত মূল্যস্ফীতি ও গভীর অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে দেশব্যাপী আন্দোলন হয়েছিল, তার পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

এম

Link copied!