বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিত

ফাইল ছবি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়া স্থগিত করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপালের নাগরিকরা প্রভাবিত হবেন। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, বলকান অঞ্চল, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্যও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।

এই পরিবর্তন কেবল তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে অভিবাসী ভিসার আবেদন করেন। ভ্রমণ, পড়াশোনা বা স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য যাঁরা ভিসা নিতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।

আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন এক সময়ে অভিবাসী, শরণার্থী ও বিদেশি নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় দেশটির পর্যটকবান্ধব ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ঘোষিত তালিকার দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে কনস্যুলেটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই আদেশে সম্ভাব্য অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি কঠোরভাবে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছিল।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশের সময় অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আবেদন প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যাতে এমন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারেন, যাঁরা সরকারি জনকল্যাণমূলক তহবিলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকেরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। তবে এই স্থগিতাদেশ চলাকালে কোনো আবেদন অনুমোদন বা ভিসা ইস্যু করা হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা কবে প্রত্যাহার হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম থাকছে। যদি কেউ তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবেদন করেন, তাহলে তিনি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

এই সিদ্ধান্ত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, পর্যটন ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন আরও কঠোর করেছে। যেসব দেশের তথ্য যাচাই ব্যবস্থা দুর্বল বা যাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়, সেসব দেশের নাগরিকদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নিয়ন্ত্রণ।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনে। একই সঙ্গে বৈদেশিক সাহায্য কর্মসূচি কমানো, রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন স্থগিত এবং দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন সীমিত করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি বড় ধরনের মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অভিবাসন প্রবাহেও পড়তে পারে।

এসএইচ 

Link copied!