রাত পোহালেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রাত পোহালেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ইসলামাবাদ-এ, যা আঞ্চলিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

কারা থাকছেন বৈঠকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষের নেতৃত্বে থাকবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

বৈঠকের আগে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী

বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কূটনৈতিক এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি একটি গোপন ও নিরাপদ স্থানে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে না। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এটি কোনো প্রদর্শনী নয়, বরং বাস্তব ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।”

আলোচনার মূল এজেন্ডা

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব। এতে হরমুজ প্রণালি-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও প্রায় ১৫ দফা প্রস্তাব নিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

কী হতে পারে ফলাফল

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। আর ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।

এম

Link copied!