ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

নতুন করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইরানের হরমুজ প্রণালির ভূখণ্ডে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর কয়েক ঘণ্টা পরই কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো টার্গেট করে পালটা হামলা শুরু করে তেহরান। 

ইরানে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার এ হামলায় কয়েকজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বৃহত্তর হামলার অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি ট্যাংকারেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম।

এই অভিযানের বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘মার্কিন বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ স্থাপনা রয়েছে।’

মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা
আল জাজিরা বলছে, ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলার পর পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরানও। এর অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন আসার তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, যদি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় তাহলে এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হবে। তবে নিরাপত্তার জন্য সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারি’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এই হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।

তবে হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।

এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।

অপরদিকে বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং যেসব জায়গায় মার্কিন সেনারা জড়ো হয়েছে তাদের টার্গেট করা হয়েছে।

এরসঙ্গে ইরাকে থাকাও মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশকিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের এ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এম

Link copied!