সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৯:০১ এএম
সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

ফাইল ছবি

ঢাকা: ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে বিশ্ববাজারে দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্সের।

ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে সরবরাহ আরও কমে গেলে এই সংকট চরম আকার ধারণ করবে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ব্যবহার করে সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। কিন্তু সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে পড়ায় ইয়ানবু বন্দরে বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার মতো তেল অবশিষ্ট আছে। শিল্পখাতের তথ্যমতে, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মিসরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরে সৌদির কিছু তেল মজুত থাকলেও পাইপলাইন সচল না হলে দ্রুতই তা ফুরিয়ে যাবে।

রয়টার্স জানায়, পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের দাবি, মেরামতের কাজ শেষ হতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। তবে অপর একটি সূত্রের মতে, এর আগেই আংশিকভাবে হলেও পাইপলাইনে তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, সামুদ্রিক রুট অবরুদ্ধ হওয়া ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে গেল আগস্ট মাসে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সৌদির দৈনিক উৎপাদন ১০৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২ লাখ ব্যারেলে। সার্বিকভাবে বিশ্ববাজারে এ বছর প্রতিদিন প্রায় ৫৭ লাখ ব্যারেল বা ৬ শতাংশ তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

এসআই

Link copied!