ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা: ভারতের উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনের চৈতন্য বিহারে একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে চার জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মথুরা পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ ‘এক্স’-এ এক পোস্টে এসব তথ্য জানায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে বৃন্দাবন গুরুকুলম নামের একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যেখানে শিক্ষার্থীরা থেকে পড়াশোনা করে।
পুলিশ জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানের একটি পানির ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল, যা পরিষ্কার করতে ছাত্ররা ট্যাঙ্কের ভেতরে নামে। প্রথম শিক্ষার্থীটি ভেতরে ঢুকে আর বের হয়ে আসতে পারেনি। তাকে উদ্ধার করতে একে একে আরও চার জন শিক্ষার্থী ভেতরে যায়, কিন্তু তারাও আটকা পড়ে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন পাঁচ জনকেই ট্যাংক থেকে বের করে চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। ট্যাংকটিতে নামা পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই মারা যান। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।’
পুলিশ আরও জানায়, ‘মৃত চার শিক্ষার্থীর মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে খবর দিয়ে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া পঞ্চম শিক্ষার্থীকে উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ।
এদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘ঘটনাটি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং কর্মকর্তাদের দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও আহত শিক্ষার্থীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।’
তিনি আরও জানান, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, গুরুকুলমটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না এবং কোন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করানো হচ্ছিল—তা খতিয়ে দেখতে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এলাকার অন্যান্য গুরুকুলমগুলোতেও পুনরায় অডিট করা হবে এবং ভবনগুলো পরীক্ষা করা হবে।’
এসএসপি কুমার জানিয়েছেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এসআই