প্রোস্টেট ক্যানসার থেকে বাঁচার ৩ কারণ, অবহেলা করলেই বিপদ!

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
প্রোস্টেট ক্যানসার থেকে বাঁচার ৩ কারণ, অবহেলা করলেই বিপদ!

ফাইল ছবি

বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মূলত সামাজিক লজ্জা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের একটি হয়ে উঠেছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

জাতীয় অনকোলজি রেজিস্ট্রিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। ৪৫ বছর পার হওয়ার পর প্রস্রাবের অভ্যাস বা যৌন স্বাস্থ্যের পরিবর্তনকে বয়স বাড়ার সাধারণ লক্ষণ মনে করায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না।

ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ইউরোলজি এবং রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারির প্রধান ডক্টর বিক্রম শর্মা জানান, পুরুষেরা চিকিৎসকদের কাছে প্রস্রাব বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। এই নীরবতাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে পিছিয়ে দেয়। তিনি ৩টি প্রধান লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলেছেন।

রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া: রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়, যা প্রোস্টেটের সমস্যার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাজিয়া’ বা স্থানীয় টিউমারের কারণে হতে পারে। প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে মূত্রনালী সংকুচিত হয়, ফলে মূত্রথলিকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয় এবং সামান্য প্রস্রাব জমলেই তীব্র বেগ অনুভূত হয়।

দুর্বল, ধীর বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া: প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, শুরু করতে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা শেষ হওয়ার পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকা মূত্রনালীর পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সংকেত। মূত্রথলিতে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে বারবার ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি মূত্রথলির পেশি চিরতরে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

হঠাৎ বা ক্রমাগত যৌন অক্ষমতা: ক্যানসারের ভয় বা অপারেশনের আতঙ্কে পুরুষেরা পরীক্ষা করাতে চান না। তবে যৌন অক্ষমতাকে কেবল মানসিক সমস্যা বা হার্টের রোগ ভেবে ভুল করা যাবে না; এটি প্রোস্টেটের মারাত্মক ক্ষতির সংকেত হতে পারে। প্রোস্টেট গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গের উত্থানের জন্য দায়ী সূক্ষ্ম স্নায়ু ও রক্তনালীর খুব কাছাকাছি থাকায় টিউমার হলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ডক্টর বিক্রম শর্মা পরামর্শ ছাড়া যৌনশক্তি বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন, কারণ এতে মূল সমস্যা আড়ালে পড়ে যায়।

ভারতে প্রোস্টেট চিকিৎসার উন্নত সুযোগ থাকলেও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মূল বাধা পুরুষের মানসিক জড়তা। ডক্টর শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে ৪৫ বছর পার হলেই, বিশেষ করে পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে পিএসএ পরীক্ষা করা উচিত। একটি সাধারণ পিএসএ রক্ত পরীক্ষা এবং ডিআরই-এর মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।

প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে আক্রান্তদের ৫ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। তবে রোগটি প্রোস্টেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উন্নত রোবোটিক সার্জারি বা আধুনিক থেরাপির কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই শরীর কোনো সংকেত দিলে তা না লুকিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এসএইচ 

Link copied!