জমির নামজারির নতুন নিয়ম, জেনে নিন উত্তরাধিকারের নিয়ম

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
জমির নামজারির নতুন নিয়ম, জেনে নিন উত্তরাধিকারের নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

জমির মালিকানা স্বত্ব নিশ্চিত করা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির নামজারির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি করতে হলে মৃত ব্যক্তির সকল আইনি ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভূমি রেকর্ডের এই হালনাগাদ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

জমি ক্রয় কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই হলো নামজারি। জমির সঠিক রেকর্ড বজায় রাখা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে আইনি সুরক্ষা ও প্রশাসনিক নানা কাজের জন্য এটি অপরিহার্য। নতুন নিয়মের ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সকল ওয়ারিশের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রত্যেক ওয়ারিশকে তাঁদের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী সহ-অংশীদার বা শরিক হিসেবে নতুন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

তবে ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাটোয়ারা বা ভাগ করা না থাকলেও যৌথ নামজারির জন্য আবেদন করা যাবে। কেবল নিবন্ধিত বণ্টননামা না থাকার অজুহাতে এই ধরনের আবেদন বাতিল করা যাবে না। তবে কোনো ওয়ারিশ যদি নিজের অংশ আলাদা করে পৃথক খতিয়ান বা আলাদা কাগজ করতে চান, তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নিবন্ধিত বণ্টননামা থাকা আবশ্যক।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র কিংবা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ওয়ারিশ সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সনদে সব ওয়ারিশের নাম ও তথ্য নির্ভুলভাবে থাকা আবশ্যক, কারণ সামান্য তথ্যের অমিল বা অসংগতি আবেদন নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

নামজারি আবেদনের জন্য সাধারণত যে নথিপত্রগুলো প্রয়োজন হয়, তার মধ্যে রয়েছে—ক্রয়সূত্রের জমির জন্য নিবন্ধিত দলিলের কপি, আগের খতিয়ানের কপি, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণসহ সঠিক বিবরণ, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশ সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ এবং পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা। আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান ও জমির সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভুলভ্রান্তির কারণে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে না হয়।

ডিজিটাল যুগে মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে নামজারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট (land.gov.bd) থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে নির্দিষ্ট ধাপগুলো অনুসরণ করে ঘরে বসেই এই আবেদন করা যায়।

প্রথমে সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন ও আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়, এরপর জমি অর্জনের ধরণ সিলেক্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করে ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করতে হয় এবং অনলাইনে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়।

সঠিক সময়ে নামজারি সম্পন্ন না করলে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর বা বিক্রি এবং মালিকানা যাচাইয়ের সময় মারাত্মক প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হলে সঠিক ও হালনাগাদ রেকর্ড অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা দেয়।

তবে মনে রাখতে হবে, কেবল নামজারিই জমির চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র দলিল নয়; এর পাশাপাশি মূল নিবন্ধিত দলিল, ওয়ারিশের কাগজপত্র ও জমির বাস্তব দখলও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘমেয়াদী আইনি ঝামেলা এড়াতে এবং ঝামেলাহীন ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সময়মতো নামজারি সম্পন্ন করা এবং নতুন নিয়মের সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

এসএইচ 

Link copied!