ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পাসপোর্ট নিয়ে সুখবর, লুফে নিন সুযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য পাসপোর্ট নিয়ে সুখবর, লুফে নিন সুযোগ

প্রতীকী ছবি

ভ্রমণপিপাসু মানুষ আর প্রবাসীদের কাছে দ্বৈত নাগরিকত্ব বরাবরই আকর্ষণের বিষয়। সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষা এড়িয়ে সহজ যাতায়াত, বিদেশের মাটিতে স্থানীয়দের মতো বসবাস ও কাজের সুযোগ কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য একটি বিকল্প আশ্রয়-সব মিলিয়ে দ্বিতীয় পাসপোর্ট এখন অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-বিমা হয়ে উঠেছে।

এই প্রবণতা আর শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি ২০২৫ সালের শেষ দিকে সপরিবারে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। স্পন্সর ছাড়াই বিদেশে থাকা বা কাজ করার স্বাধীনতা যাদের লক্ষ্য, তাদের কাছে দ্বিতীয় পাসপোর্ট যেন এক জাদুকাঠি।

এমনকি যাদের এখনই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা নেই, তারাও ভবিষ্যতের ঝুঁকি মাথায় রেখে দ্বৈত নাগরিকত্বকে এক ধরনের ইনস্যুরেন্স পলিসি হিসেবে দেখছেন।

একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। ২০২৫ সালে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ বংশসূত্রে কিংবা বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম কড়াকড়ি করেছে। মাল্টার মতো দেশ গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি বন্ধ করেছে, ইতালি সীমিত করেছে বংশসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্রেও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো এক্সক্লুসিভ সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা পাস হলে মার্কিন নাগরিকদের অন্য দেশের নাগরিকত্ব রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এটি অনেকটাই প্রতীকী উদ্যোগ।

সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হলেও জরিপগুলো বলছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির ২ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ একাধিক পাসপোর্টধারী, যা আগের দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে যুক্তরাষ্ট্র ১২তম অবস্থানে নেমে যাওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিক বিকল্প খুঁজছেন। গ্যালপের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিনির একজন দেশ ছাড়তে আগ্রহী, যেখানে তরুণীদের হার তুলনামূলক বেশি। হেনলি অ্যান্ড পার্টনারসের তথ্য বলছে, তাদের গ্রাহকদের বড় একটি অংশ এখন আমেরিকান ও ব্রিটিশ নাগরিক।

সাধারণত তিনভাবে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। বংশসূত্রের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের নাগরিকত্ব প্রমাণ করে পাসপোর্ট নেওয়া যায়। ন্যাচারালাইজেশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশে পাঁচ থেকে দশ বছর বৈধভাবে বসবাস, ভাষা ও সংস্কৃতির জ্ঞান এবং সচ্চরিত্রের প্রমাণ দিতে হয়। তৃতীয় পথটি হলো বিনিয়োগ, যেখানে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় পাসপোর্ট ভিসামুক্ত ভ্রমণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়। তবে এর ঝুঁকিও কম নয়। অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের দুই দেশেই কর দিতে হয়। কোথাও কোথাও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার ঝুঁকি থাকে। আবার আর্জেন্টিনা বা ইরানের মতো কিছু দেশ নাগরিকত্ব ত্যাগ সহজে স্বীকার করে না।

ইউরোপে দরজা বন্ধ হলেও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ এখনো বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের নাউরু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে বিশেষ নাগরিকত্ব প্রকল্প চালু করেছে। লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও এল সালভাদরও নতুন বিনিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে সামনে এগোচ্ছে।

আইনজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্বের নিয়ম যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। আজ যে সুযোগ আছে, কাল তা নাও থাকতে পারে। তাই যোগ্যতা ও সামর্থ্য থাকলে সময় থাকতেই দ্বিতীয় পাসপোর্টের সুযোগ কাজে লাগানোই এখন অনেকের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

এসএইচ 
 

Link copied!