বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
বর্ষসেরা রিপোর্টের খোঁজে ডিআরইউ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ। এবারের আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, প্রিন্ট ও অনলাইন এবং টেলিভিশন ও রেডিও—দুই বিভাগে মোট ২৬টি ক্যাটাগরিতে সেরা রিপোর্টের জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।

জমা পড়া রিপোর্ট থেকে যাচাই-বাছাই করে বছরের সেরা রিপোর্ট নির্বাচন করবেন দেশের ১০ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ডিআরইউর সদস্যদের গত ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রতিবেদন এ পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া যাবে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৪ অক্টোবর।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, বছরের সেরা রিপোর্টের জন্য রিপোর্টারদের সম্মানিত করার এ আয়োজন দেশের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেয়ার একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। ডিআরইউ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি এ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর ইতিবাচক প্রভাব সাংবাদিকতার ওপর পড়েছে।

আবু সালেহ আকন বলেন, একটি ভালো রিপোর্ট শুধু একটি সংবাদ নয়, অনেক সময় সেটি হয়ে ওঠে সময়ের দলিল। একজন রিপোর্টার মাঠে গিয়ে যে তথ্য সংগ্রহ করেন, মানুষের কথা তুলে ধরেন এবং সত্যকে পাঠকের সামনে নিয়ে আসেন—তার পেছনে থাকে অনেক শ্রম, ঝুঁকি ও দায়িত্ববোধ। সেই কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সাংবাদিকতার ধরন ও মাধ্যম বদলেছে। কিন্তু সত্য অনুসন্ধান, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পেশাগত সততার জায়গাগুলো বদলায়নি। ডিআরইউ ভবিষ্যতেও তার সদস্য সাংবাদিকদের পাশে থাকবে এবং তাদের পেশাগত উৎকর্ষ ও ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

ডিআরইউ সভাপতি আরও বলেন, যারা একটি ভালো রিপোর্টের জন্য সময় দেন, তথ্য যাচাই করেন এবং অনেক সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন, এই আয়োজন মূলত তাদের জন্য। আমরা চাই, ডিআরইউর সদস্যরা আরও ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় যুক্ত হোন এবং তাদের রিপোর্টের মাধ্যমে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসুন।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এবারের আয়োজনে ডিআরইউর অংশীদার হয়েছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ। দেশের ডিজিটাল লেনদেন খাতে অল্প সময়েই বড় জায়গা করে নিয়েছে দেশীয় এ সেবা। এ বছরসহ মোট তিনটি অ্যাওয়ার্ড আয়োজনে ডিআরইউর সঙ্গে কাজ করেছে নগদ। দেশের সাংবাদিকতাকে আরও উৎসাহিত করতে দেশীয় সেবা নগদের এ প্রচেষ্টাকে তিনি ধন্যবাদ ও স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, ডিআরইউর সদস্য সাংবাদিকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একজন সাংবাদিকের সৃজনশীলতা, অনুসন্ধানী মনোভাব ও পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, ডিআরইউ সবসময়ই তার সদস্য সাংবাদিকদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে উৎসাহিত করে আসছে। বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। এ আয়োজনের মাধ্যমে বছরের সেরা প্রতিবেদনগুলো সামনে আসবে এবং তা দেশের সাংবাদিকতার মানোন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে নগদের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, অ্যাওয়ার্ডের সমন্বয়ক ও ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা ও কার্যনির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরীসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নগদ প্রথমবারের মতো ২০২১ সালে ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর ২০২৫ সালে এবং এবার তৃতীয়বারের মতো ২০২৬ সালে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হলো প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাওয়ার্ডের ২৬ বিষয়: এবারের অ্যাওয়ার্ডে প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগে ১৫টি এবং টেলিভিশন ও রেডিও বিভাগে ১১টি—মোট ২৬টি বিষয়ে পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রিন্ট ও অনলাইন বিভাগের ১৫টি বিষয় হলো—মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি; শিক্ষা (মহামান্য রাষ্ট্রপতির সৌজন্যে); স্বাস্থ্য; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; আর্থিক খাত (ব্যাংক, বীমা ও পুঁজিবাজার); অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা; আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; রাজনীতি, প্রশাসন, বিচার ও নির্বাচন কমিশন; ক্রীড়া; কৃষি ও পরিবেশ; নারী, শিশু ও মানবাধিকার; সুশাসন ও দুর্নীতি (অনুসন্ধানী); নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা; বৈদেশিক সম্পর্ক (কূটনীতি ও জনশক্তি)—সৌজন্যে মনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডিআরইউ; এবং সামগ্রিক অর্থনীতি।

টেলিভিশন ও রেডিও বিভাগের ১১টি বিষয় হলো—শিক্ষা; স্বাস্থ্য ও সেবা খাত; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতি; অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা; আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; রাজনীতি, প্রশাসন, বিচার ও নির্বাচন কমিশন; ক্রীড়া; কৃষি ও পরিবেশ; নারী, শিশু, মানবাধিকার ও সুশাসন এবং অনুসন্ধানীমূলক তথ্যচিত্র/অনুষ্ঠান।

পিএস

Link copied!