ছবি : প্রতিনিধি
ঢাকা: ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে “মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং মোঃ হাবিবুর রহমান।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক পরিষদ (বাপশিপ), ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমিত সাহা এবং বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি (বাপশিস), ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল গফুর।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈশাখী টেলিভিশনের হেড অব অনলাইন ও ডিজিটাল এইচ এম নাহিয়ান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ শিমুল পারভেজ, ভিওডি বাংলার চিফ রিপোর্টার রুদ্র রাসেল, সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্টার নিউজের রিপোর্টার এইচ এম ইমরান হোসাইন, ভিওডি বাংলার ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ মান্না, বৈশাখী টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. আবুল খায়ের এবং বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আরমান খান ছামির। এছাড়াও সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বাপ্পীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান “মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬”-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতেও এইধরনের আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান।
উপাধ্যক্ষ প্রকৌশলী জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, সাংবাদিকতা দায়িত্বশীলতা, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
উপাধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সাংবাদিক সমিতির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বৈশাখী টেলিভিশনের হেড অব অনলাইন ও ডিজিটাল এইচ এম নাহিয়ান বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ শিমুল পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতা। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকার উপর জোর দেন।
ভিওডি বাংলার চিফ রিপোর্টার রুদ্র রাসেল বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ভবিষ্যতের গণমাধ্যমকর্মী তৈরির অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখালেখি ও সংবাদ সংগ্রহের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্টার নিউজের রিপোর্টার এইচ এম ইমরান হোসাইন বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বুটেক্স সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলভী আহমেদ বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের মিলনমেলা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আলোচনা পর্ব শেষে অতিথি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে মৌসুমী ফল উৎসবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত ফলের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেঁপে, লটকন, ড্রাগন ফল, আমড়া ও পেয়ারা।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আরমান খান ছামির উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”
পিএস
আপনার মতামত লিখুন :