নতুন করে কোন এলাকায় লোডশেডিং কেমন?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
নতুন করে কোন এলাকায় লোডশেডিং কেমন?

তীব্র গরমের মধ্যে সারাদেশে বাড়ছে বিদ্যুৎ সংকট, শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই লোডশেডিং নিয়ে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার এক বাসিন্দা জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং প্রতিবারই দীর্ঘ সময় ধরে ফিরে আসতে দেরি হচ্ছে। তার মতে, কিছু এলাকায় প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলেও। নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা এলাকার একজন শিক্ষার্থী বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে গেছে, যা সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একদিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট—ফলে দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি দেখা দেয়। পরদিন এই ঘাটতি আরও বেড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোডশেডিং করতে হয়েছে। এছাড়া খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল এবং রংপুরসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো না গেলে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, একই সঙ্গে দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এম

Link copied!