পুরোদমে চালু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
পুরোদমে চালু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা

ফাইল ছবি

দীর্ঘ দেড় বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। সম্পর্কের এই উষ্ণতার প্রতিফলন হিসেবে দুই দেশই পুরোদমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু শুরু করেছে এবং ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের সব ভিসা কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করবে বলে জানা গেছে।

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে ভিসা স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

বর্তমানে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগরতলা ও চেন্নাইসহ ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র সচল রয়েছে। ফলে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও একই ধরনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত ডিসেম্বরে কিছু কেন্দ্রে ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারতীয় ভিসা সেবাগুলো তার পুরনো রূপে ফিরবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দুই দেশের সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

ডিসেম্বরে হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় বিক্ষোভ এবং চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে দুই দেশই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত করেছিল।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দৃশ্যপট দ্রুত বদলাতে শুরু করে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন বিকেলে দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। 

যদিও ব্যস্ততার কারণে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সম্পর্কের এই নতুন রসায়নের ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি মিশন থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এখন ভারতের পক্ষ থেকে ভিসা কার্যক্রম পুরোদমে চালুর ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে।

এসএইচ 

Link copied!