সড়ক-রেল-বন্দর-আকাশপথে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বাজেট

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
সড়ক-রেল-বন্দর-আকাশপথে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বাজেট

ফাইল ছবি

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহন খাতে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়ানো এবং আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

সড়ক ও সেতু খাতে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড নির্মাণের সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পরিকল্পনার পাশাপাশি ছয়টি মেট্রোরেল লাইন ও মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রেলপথ খাতে সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, বন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ, ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা–কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মিত হলে এ পথে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে।

নৌপরিবহন খাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা ও লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, ড্রেজিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার পাশাপাশি কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এবং বিমানবন্দরে ওয়াইফাই সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরবরাহব্যবস্থা ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যেই আগামী অর্থবছরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসএইচ 

Link copied!