সচিব কমিটির বৈঠকে বেতন কাঠামো চূড়ান্ত, থাকছে এলপিআরসহ যেসব সুবিধা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
সচিব কমিটির বৈঠকে বেতন কাঠামো চূড়ান্ত, থাকছে এলপিআরসহ যেসব সুবিধা

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে। বৈঠকে জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে-কমিশনের সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সাধারণ চাকুরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রশ্ন অর্থাৎ প্রথম ধাপে মূল বেতন বা বেসিকের কত শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বুধবার (২৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সুপারিশ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রস্তাবনা নিয়ে সভায় বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে এবং এর জন্য আগামীতে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অর্থাৎ সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবীদের পে-স্কেল মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাবে বা কয় ধাপে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কমিটির সদস্যরা বিস্তারিত ভালো বলতে পারবেন। এছাড়া পিআরএল বা এলপিআর (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) ভোগরত কর্মকর্তাদের জন্য বড় সুখবর রয়েছে। ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে যারা এলপিআর ভোগ করছেন, তারাও এই নতুন নবম পে-স্কেলের আওতাভুক্ত হবেন এবং এর সুবিধা পাবেন।

এদিকে বেসিক বা মূল বেতন বৃদ্ধি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের মতে, পে-স্কেল সরকারের জন্য একটি সংবেদনশীল ও অনেক বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়, তাই এ বিষয়ে সরকার নিজেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।

অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলে বেসিকের কত শতাংশ বৃদ্ধি পাবে তা সুনির্দিষ্ট না হলেও তিনটি বিকল্প সমীকরণ মাথায় রেখে কাজ করছে সরকার। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের ঢালাও ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প সমীকরণ হিসেবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। এছাড়া তৃতীয় আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও সরকারের রয়েছে। এই একাধিক বিকল্পের মধ্য থেকে সরকার শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এসএইচ 

Link copied!