ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সম্প্রতি পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে তিন দফায় অবসরে পাঠানোর পর এবার সিভিল প্রশাসনের বড় কর্তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরার (‘রাতের ভোট’) নানা অনিয়মে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী এই কর্মকর্তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বর্তমান সরকার জনস্বার্থে তাঁদের চাকরিতে রাখা সমীচীন নয় বলে বিবেচনা করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিধি মোতাবেক তাঁরা অবসরজনিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আইনানুযায়ী, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর বয়স বা চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার চাইলে জনস্বার্থে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—মাজেদুর রহমান খান, আবুল ফজল মীর, আসলাম হোসেন, মঈনউল ইসলাম, মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, মো. শাহরিয়ার, কাজী আবু তাহের, এ জেড এম নুরুল হক, মো. মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, অঞ্জন চন্দ্র পাল, এ কে এম মামুনুর রশিদ, কামাল হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মো. জসিম উদ্দিন, সরোজ কুমার নাথ, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, এস এম অজিউর রহমান, মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নাজিয়া শিরিন, সুলতানা পারিভীন, আনার কলি মাহবুব, মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, সৈয়দা ফারহানা কাইনাইন, সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, মাহমুদুল কবীর মুরাদ, আলী আকবর, এস এম আব্দুল কাদের, এস এম ফেরদৌস ও গোপাল চন্দ্র দাশ।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ ১৮-দলীয় জোটের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দল অংশ নিলেও নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার তীব্র অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের কাছে এই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই সময়কার মাঠ প্রশাসনের বিশ্বস্ত এই কর্মকর্তাদেরই এবার বাধ্যতামূলক বিদায় জানাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এম