ফাইল ছবি
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিজি প্রেসের কাজ শেষ করে রেজুলেশনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে নতুন পে স্কেল। প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
নতুন এই বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে বাজারমূল্য ও মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। একইভাবে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে।
পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ বিপুল বার্ষিক ব্যয়ের সাথে এই নতুন স্কেল কার্যকর হলে রাজস্ব বাজেটে তীব্র চাপ তৈরি হবে। ব্যাংক খাতের সংকট ও দুর্বল রাজস্ব আদায়ের মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় পরিচালনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের ক্ষয় পুষিয়ে নেওয়া যৌক্তিক হলেও এতে বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সাথে আয়বৈষম্য আরও বাড়বে। একই সাথে পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পে স্কেল শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটাচ্ছে লাখো পরিবারে, কিন্তু জাতীয় অর্থনীতির সার্বিক ভারসাম্যের কঠিন পরীক্ষা এখন কেবল শুরু।
এসএইচ