মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়েছেন পোশাক শ্রমিকেরা। সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ গেলে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে বেতন পুনর্বিন্যাসের আন্দোলন নতুন নয়। এদিন সকাল নয়টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকেরা প্রথম সড়ক অবরোধ করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মীরা এসে এই বিক্ষোভে যোগ দেন।

প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পুরো মিরপুরজুড়ে চরম যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়ক খালি করার উদ্যোগ নিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদপত্রের নিয়মিত নজরদারিতে উঠে এসেছে যে, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকেরা নির্ধারিত বোর্ডের সিদ্ধান্তের আগেই সরাসরি ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।

এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে দিনভর মিরপুর ও কালশী এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে উত্তেজনা দেখা যায়। সেসময় একপর্যায়ে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি, কারখানা ও সংলগ্ন বাণিজ্যিক ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রম ও মালিক পক্ষ দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধরনের অস্থিরতা আরও বড় আর্থিক ও সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

এসএইচ 

Link copied!