গ্যাসের তীব্র সঙ্কট, শিল্পোৎপাদন ব্যাহত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০১৬, ০৩:৫২ পিএম
গ্যাসের তীব্র সঙ্কট, শিল্পোৎপাদন ব্যাহত

দেশের শিল্প-কারখানগুলোতে বর্তমানে গ্যাস সঙ্কটট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানাবা প্রায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে অথবা বিকল্প উপায়ে চালাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগাসিবদর শিকার দেশের পোশাক কারখানাগুলো। গ্যাস সঙ্কটে কারখানাগুলোর ৩০ শতাংশের মতো উৎপাদন কমে গেছে। এমতাবস্থায় অনেক কারখানারই রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলা এবং শিল্প-কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানাই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইপলাইনে গ্যাস এলেও চাপ খুবই কম। ফলে এখন ভরা মৌসুমে বাড়তি শিফট চালিয়েও সময় মতো পণ্য সরবরাহ করতে কারখানাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  তাছাড়া প্রকট গ্যাস সঙ্কটে কোনো কোনো ইউনিট সারাদিনই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। 

এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পোশাক কারখানাগুলোর পক্ষে বিদেশি ক্রেতার চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের জন্য পোশাক তৈরি কারখানাগুলো আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দিন-রাত ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও গ্যাসস্বল্পতায় দুপুরের পরই উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে ঈদের বাড়তি চাহিদা মেটানো তো দূরের কথা, গ্যাস সঙ্কটে কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদনই অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপজনিত সমস্যা কমবেশি আগে থেকেই ছিল। তবে রমজানের শুরুতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি সংস্থাগুলো বলছে- রমজানে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। সেজন্য এখন সার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে শিল্প কারখানায় গ্যাসের সঙ্কট বেড়েছে। অথচ মে-জুন মাসে দেশের পোশাক খাতের ভরা মৌসুম। 

এই সময়ই পণ্য রফতানির আদেশ বেশি থাকে। কিন্তু গ্যাস সঙ্কটে পুরোদমে উৎপাদন করেও আমদানিকারকদের চাহিদা মেটাতে কারখানাগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি সম্মুখীন হতে হবে। এ অবস্থায় অনেক পোশাক কারখানার মালিক রফতানি আদেশ যথাসময়ে সরবরাহ করার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজছে। গ্যাস সঙ্কট মেটাতে বহু কারখানার মালিক সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস কিনে নিয়ে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রে ছোটো ছোটো কারখানার মালিকদের পক্ষেও সিলিন্ডার গ্যাস দ্বারা কারখানা চালু রাখা সম্ভব নয়। কারণ তাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, রমজানে বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। সেজন্য অন্যান্য খাত থেকে গ্যাস নিয়ে ঘোড়াশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দেয়া হচ্ছে। আর তার প্রভাব পড়েছে শিল্পখাতে। রমজানে প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেয়া হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্টরা শিল্প কারখানার  গ্যাস সঙ্কট আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন। 

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা ৩২০ থেকে ৩৩০ কোটি ঘনফুট। আর পেট্রোবাংলা সরবরাহ করে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি থাকে ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎ খাত ৪০ শতাংশ। আর শিল্প খাতে ১৭ শতাংশের মতো গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

এদিকে গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- সিএনজি ও শিল্প খাত থেকে গ্যাস নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রথম রমজান থেকে চার ঘণ্টার স্থলে দিনে ৭ ঘণ্টা করে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে। গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত এক সভায় রমজানে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ সংকুচিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। 

ওই সভায় বলা হয়- যেসব শিল্প-কারখানা ১ লাখ ঘনফুট বা তার বেশি গ্যাস ব্যবহার করে, পিক আওয়ারে অর্থাৎ সন্ধ্যারাতে সেগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হবে। তাছাড়া ক্যাপটিভ বিদ্যুতে (শিল্পের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা) ব্যবহৃত গ্যাসের সরবারহও সান্ধ্যকালীন পিক সময়ে কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

অন্যদিকে এ পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাইনে গ্যাস আসে না। দিনে পাঁচ ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অথচ জুন-জুলাইয়ে রফতানি অর্ডারের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঈদ মৌসুম। এই সময়ে গ্যাস সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে ব্যবসা চলবে কীভাবে?

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ও এর আশপাশে এলাকার গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান বলেন, বিদ্যুতের জন্য বেশি গ্যাস দেয়া হচ্ছে। ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় গ্যাস নিচ্ছে। ওই কারণে অন্য খাতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে শিগগিরই পরিস্থিতির একটু উন্নতি হতে পারে। কারণ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। ওই গ্যাস বিদ্যুৎসহ অন্য খাতে দেয়া হবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এএম
 

Link copied!