ফাইল ছবি
ঢাকা: কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নতির দিকে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি শহরটির বাতাসে ফের বেড়েছে দূষণ। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় নিয়মিত উপরের দিকে অবস্থান করছে এই মেগাসিটি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) তেমন ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় আজ দ্বিতীয় স্থানে আছে ঢাকা। তবে, বায়ুমানের অবনতি ঘটেছে অনেকটাই।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার থেকে পাওয়া এদিন সকাল ৯ টার আপডেট অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর ২৮৭। বায়ুমানের এ স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। আর মাত্র ১৩ স্কোর যোগ হলেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বাতাসের শহরের তালিকায় ঢুকে যাবে বাংলাদেশের রাজধানী।
এদিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় সবশেষ আপডেট অনুযায়ী শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। শহরটির একিউআই স্কোর আজ ৩৯৪। বায়ুমানের এই স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২১২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের আরেক শহর কলকাতা।
এদিকে একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ ১০-এ দেখা গেছে চীনের চারটি শহরের নাম। ১৯৬ স্কোর নিয়ে দেশটির চেংডুর অবস্থান চতুর্থ, ১৯২ স্কোর নিয়ে দেশটির চংচিং শহরের অবস্থান ষষ্ঠ, ১৮৯ স্কোর নিয়ে চীনের আরেকটি শহর উহানের অবস্থান সপ্তম আর অষ্টম অবস্থানে থাকা দেশটির আরেক শহর হাংজুর স্কোর ১৮৬। চার শহরেরই বায়ুমানের স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এছাড়া, ১৯২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছে ইথোপিয়ার আদ্দিস আবাবা, ১৭৩ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে নেপালের কাঠমন্ডু এবং ১৭২ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে আছে ভিয়েতনামের হেনোয়।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
ঢাকার বর্তমান একিউআই স্কোর ২৭১ হওয়ায় নগরবাসীর জন্য তা চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যারা প্রাতঃভ্রমণে বের হন অথবা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নামেন, তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বিষাক্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরিবেশ বিদরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলোবালি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার দূষণ ঢাকার বাতাসকে এমন বিষাক্ত করে তুলছে। একিউআই স্কোর যদি ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তবে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানের এই ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। শহরের বায়ুমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সামনের দিনগুলোতে দূষণের এই রেকর্ড আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসআই
আপনার মতামত লিখুন :