ফাইল ছবি
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ জমা দেওয়ার পরও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে।
পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কর্মচারী সংগঠনগুলো আশা করেছিল, দ্রুত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে জানুয়ারি থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। এমনকি ৩১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং সরকারের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পে স্কেল বাস্তবায়ন শুধু আর্থিক বিষয় নয়, এটি প্রশাসনিক মনোভাব ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। সরকার পরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন ও সংস্কারের নানা উদ্যোগ আলোচনায় থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকা নিয়ে।
অন্যদিকে কর্মচারী নেতারা বলছেন, সাত বছরের বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসার পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের ভাষ্য, কমিশন গঠনের মাধ্যমে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। একদিকে কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও অন্যদিকে নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা কিংবা পে স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ার ইঙ্গিত কর্মচারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি করছে। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির বেতন কাঠামো প্রশাসনের দক্ষতা ও সেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত না হলে তার প্রভাব সরাসরি জনসেবায় পড়তে পারে।
এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চলমান কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে স্পষ্ট, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনও অস্পষ্ট। গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় ধোঁয়াশা কাটছে না। এই অনিশ্চয়তা শুধু কর্মচারীদের মধ্যেই নয়, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের প্রশ্নেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :