অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের তুলনায় ঘাটতির পাল্লাটা ভারী: টিআইবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনের তুলনায় ঘাটতির পাল্লাটা ভারী: টিআইবি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক যে অর্জন হয়েছে, তার তুলনায় ‘ঘাটতি বা পথভ্রষ্ট হওয়ার’ উপাদানের ‘পাল্লাটা তুলনামূলক ভারী’।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে তিনি এ কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, সেটি আইনগত হোক, সাংবিধানিক হোক বা অন্য মানদণ্ডে...সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি আমরা দেখতে পাচ্ছি।” ঝুঁকি প্রতিহত করার মত সম্ভাবনা ‘দেখা যাচ্ছে না’।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম এবং মো. জুলকারনাইন। গবেষণা প্রতিবেদনে বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনের নিরিখে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে চারটি ক্ষেত্রেই সরকারের উল্লেখযোগ্য ‘অগ্রগতি ও অর্জন হয়েছে’ মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিচার ও নির্বাচনের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।” তবে অবকাঠামো ‘পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয় এবং মজবুত নয়’।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে যতটুকু মজবুত বা শক্তিশালী হতে পারতো, ততটুকু হয়নি। এর কারণে ভবিষ্যতেও এই ভিত্তিটা আরো দুর্বল এবং আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।”

ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে আমরা মনে করি যে জুলাই সনদ দুর্বল হয়েছে। “জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারকে কেন্দ্র করে যে ধরনের সুপারিশগুলো ছিল বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের, সেই সুপারিশগুলোকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সকলেরই এক ধরনের অনীহা ছিল।”

জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে গণভোট, সেটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ‘বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে’ এবং বাংলাদেশের মধ্যে ‘দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ সরকারের নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে বিচার বিভাগের সংস্কারকে ‘সর্বোচ্চ’ হিসেবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, “মোটাদাগে আগে যেটা আমরা দেখেছি, কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিচার বিভাগের সংস্কারসহ বিশেষ করে মানবতাবিরোধী এবং দুর্নীতি অভিযোগের যে বিচার প্রক্রিয়া রয়েছে বেশ অ্যাগ্রেসিভলি, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত। সেখানে কিছু কিছু সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

“কিন্তু আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি, স্বাভাবিকভাবে ধীরগতি এবং প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা। আমি মনে করি যে, বিচার এবং প্রতিশোধ দুটির মধ্যে একধরনের একাকার করে হয়েছে। বাস্তবে বিচার কতটুকু প্রতিশোধ, সেই প্রশ্ন.. বিতর্কটা সবসময় থেকে যাবে বলে আমি মনে করছি।”

সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না— এমন প্রশ্ন তুলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্ম—এই তিনটি শক্তির অপব্যবহার প্রকট দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। যার ফলে বাস্তবে সমান প্রতিযোগিতাসহ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটি আমাদের দেখার বিষয়।”

এ সরকার প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের মাধ্যমে ‘দলীয়করণ মুক্ত করার চেষ্টা করেছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, আগের মনোপলিস্ট বা একটি প্রভাব থেকে বেরিয়ে সেখানে ‘ত্রিমুখী প্রভাব’ বিরাজ করছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অবাধ তথ্যের প্রবাহ, যেটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল মানুষের। সরকারের অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল, জাতির কাছে সরকার প্রধানের প্রথম যে ভাষণ ছিল, সেই ভাষণে পরিষ্কারভাবে বিষয়টির উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

“কিন্তু সরকারি দপ্তরে আমরা দেখেছি- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা ছিল, অংশগ্রহণমূলক হয়নি এবং গোপনীয়তার সংস্কৃতিক কাজ করেছে।”

পিএস

Link copied!