পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হচ্ছে বৃহস্পতিবার,শতভাগ বাস্তবায়নের কৌশল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৭:১২ এএম
পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হচ্ছে বৃহস্পতিবার,শতভাগ বাস্তবায়নের কৌশল

দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত কমিটি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করবে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে একবারে নয়, বরং আগামী তিন অর্থবছরে তিন ধাপে এই নতুন বেতন কাঠামো শতভাগ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে সরকার।

আগামী ১ জুলাই (২০২৬-২৭ অর্থবছর) থেকেই নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। এই লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত এই কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললেই অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

তিন ধাপের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কেমন হবে?

অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সূত্র অনুযায়ী, একযোগে পুরো সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

প্রথম বছর (১ জুলাই, ২০২৬ থেকে): সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিদ্যমান মূল বেতনের (Basic Salary) ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন।

দ্বিতীয় বছর (২০২৭-২৮ অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ প্রথম দুই বছরেই মূল বেতনের শতভাগ সমন্বয় সম্পন্ন হবে। তবে এই সময়ে বাড়িভাড়া বা অন্যান্য ভাতা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।

তৃতীয় বছর (২০২৮-২৯ অর্থবছর): এই ধাপে যুক্ত হবে নতুন বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিশেষ প্রণোদনা ও ঝুঁকি ভাতাসহ অন্যান্য সব আর্থিক সুবিধা।

নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার

কমিটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনার পাশাপাশি সবচেয়ে কম আয়ের কর্মচারীরা যাতে বেশি সুবিধা পান, সুপারিশে সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্য ও বিচার বিভাগসহ সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই নতুন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

বাড়ছে প্রবীণদের পেনশনও

সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী ছাড়াও বড় সুবিধা পেতে যাচ্ছেন পেনশনভোগীরা। এক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে পেনশন বাড়ানোর একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:

১. যাঁরা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাঁদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

২. ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭৫ শতাংশ।

৩. আর যাঁরা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এম

Link copied!