ফাইল ছবি
বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের যে বাজেট তিনি উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন, সেখানে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে সরকারি চাকরিজীবীদের এই দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবত একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ হতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বাজেট নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন পে-স্কেল আংশিকভাবে বাস্তবায়নের এমন ঘোষণা থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরাসরি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বড় কোনো বাড়তি বরাদ্দ দেখানো হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বাজেটে এই বেতন-ভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ ৪৪ হাজার ৮াস্ট৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
সরাসরি বেতন-ভাতা খাতে বড় লাফ না দেখা গেলেও সরকার সামগ্রিক জনপ্রশাসন খাতে বিশাল বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করছে। নতুন বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দকৃত ৭২handle হাজার ২৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় নতুন বরাদ্দ প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন খাতের এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের পুরোটা কেবল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় হবে না। এর আওতায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নতুন জনবল নিয়োগ, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ও অতিরিক্ত অন্যান্য সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অন্তত তিন অর্থবছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরেই সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা চড়া বাজারের এই সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের একাংশের জন্য বড় স্বস্তি দেবে।
এসএইচ
আপনার মতামত লিখুন :