ফাইল ছবি
বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, সড়কেও তীব্র জ্বালানি সংকট। উৎপাদনে ধস নামায় বন্ধ হওয়ার উপক্রমে পৌঁছেছে শত শত শিল্পকারখানা। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলা নজিরবিহীন গ্যাস সংকটে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সংকটের মূল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে আগুনের ঘটনা এবং সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় সময়মতো এলএনজি সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার। পুরো পরিস্থিতির দায় এসে পড়েছে জ্বালানি বিভাগের অদূরদর্শিতা ও অবহেলার ওপর। জ্বালানি খাতের সব কার্যক্রম এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ও নীতিগত সিদ্ধান্তে গতি আনতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের।
ঘটনার শুরু গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লারে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে। এই দুর্ঘটনার পর সরকারি তদন্ত দলকে টার্মিনালে প্রবেশ করতে না দিয়ে অসহযোগিতার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে মার্কিন কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। এমনকি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে কার্গোর অভাবে সম্প্রতি এক্সিলারেটের টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আপাতত কেবল সামিটের টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে সময়মতো এলএনজি না কেনার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিল্প মালিকদের। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এরই মধ্যে বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো কর্মী।
সরাসরি ক্রয়নীতির নামে ঘটে যাওয়া অনিয়ম খতিয়ে দেখে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারীদের শাস্তির আওতায় আনার কঠোর বার্তা দিয়েছে শীর্ষ দেওয়ানি প্রশাসন। তবে আগামী ২৩ আগস্ট বিপির নতুন কার্গো দেশে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএইচ