পে স্কেলের গেজেট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন

ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের সার্বিক প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন বিভাগের বিশ্বস্ত সূত্রমতে, প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যেই পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে পৌঁছেছে। বর্তমানে খসড়াটি চূড়ান্ত আইনি যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে রয়েছে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরেই এতে নির্দিষ্ট এসআরও নম্বর বসিয়ে গেজেট আকারে জারি করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করতে অর্থ বিভাগের ওপর তাগিদ ছিল, কারণ পে স্কেল অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি উঠছিল।

নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় রেখে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে ১ নম্বর বা শীর্ষ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে। একইভাবে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

তবে সরকারি কোষাঘারের সক্ষমতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন মূল বেতনের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হচ্ছে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে মোট তিন ধাপে বর্ধিত অর্থ মূল বেতনের সাথে সমন্বয় করা হবে।

পদ্ধতি অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সাথে যুক্ত হবে। ফলে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন তিন ধাপে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং সবশেষে ২০ হাজার টাকায় গিয়ে পৌঁছাবে।

প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে এবং পরবর্তী দুই ধাপে ৩০ শতাংশ করে কার্যকর করা হবে। এতে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেসিক পর্যায়ক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং চূড়ান্ত ধাপে ৪৪ হাজার টাকা হবে। প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেসিকও তিন ধাপে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

মূল বেসিক ধাপে ধাপে বাড়ানো হলেও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে কিছুটা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সরকারি কর্মচারীদের। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ আনুসঙ্গিক বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ নতুন কাঠামোয় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত হাজার হাজার কর্মচারী ও কর্মকর্তার মাঝে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।

এসএইচ 

Link copied!