আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে পারছে না দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে পারছে না দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার

আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে পারছে না দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে পরিবারগুলোর। ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয় ভাঙার পাশাপাশি ঋণ করতে হচ্ছে অনেককে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে দেখা গেছে, এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ করেছে দেশের ৪৭.৪২ শতাংশ পরিবার। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলোতে এ সংকট বেশি।

বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এ উঠে এসেছে এমন চিত্র।

জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে সংস্থাটির দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল জরিপটি পরিচালনা করে। গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা।

অর্থাৎ প্রতি মাসে গড় আয়-ব্যয়ের ঘাটতি এক হাজার ৭৯৮ টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে অনেক পরিবারকে ঋণ কিংবা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতায়ও রয়েছে পার্থক্য। গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গ্রামের ৫১.৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০.১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২.১১ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। শহরাঞ্চলে তা ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য ও অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে যায়। তবে গ্রামে খাদ্য ব্যয়ের চাপ বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ব্যয়ের ৫৬.৭ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারির পর থেকে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রামে আয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিবারগুলোকে বেশি ঋণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রবাস আয় থেকেও সীমিতসংখ্যক মানুষ বেশি উপকৃত হচ্ছেন।

বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ৮.০৫ শতাংশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটেও এ চাপের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি ও দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এম

Link copied!