ফাইল ছবি
তিন বছর আগে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ১২ হাজার টাকা। সেই মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন তাঁরা।
এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। আজ রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশোধিত ধারা ১৩৯ অনুযায়ী, বোর্ডের দায়িত্ব হবে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ করা। বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করবে। পরে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও গ্রেডভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছিল সরকার। সেই কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে।
২০২৩ সালের মজুরিকাঠামো অনুযায়ী, পোশাকশ্রমিকদের পাঁচটি গ্রেডে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মোট মজুরি ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা। দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১৩ হাজার ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পঞ্চম গ্রেডে ন্যূনতম মজুরি ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
ওই কাঠামোয় পোশাকশিল্পের কর্মচারীদের জন্যও পৃথক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁদের চারটি গ্রেডের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্রেডে মোট মজুরি ছিল ১৮ হাজার ৮০০ টাকা। শিক্ষানবিশ কর্মচারীদের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৯৫০ টাকা।
এর আগে ২০১৮ সালে পোশাকশ্রমিকদের মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন সাতটি গ্রেডে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। ওই কাঠামোয় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা।
পোশাকশ্রমিকদের জন্য প্রথম মজুরি বোর্ড ১৯৯৪ সালে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে। তখন মাসিক মজুরি ছিল ৯৩০ টাকা। পরে ২০০৬ ও ২০১০ সালে মজুরি বাড়ানো হয়।
২০১৩ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৭৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ হাজার টাকা হয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
এবার সেই মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা। নতুন মজুরি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত করবে।
এসএইচ