নওগাঁর রাণীনগরে আলু চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবন

  • সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০১৬, ০৯:১৩ এএম
নওগাঁর রাণীনগরে আলু চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবন

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রবিশস্য মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চাষ করা হয়েছে আলু। এতে কৃষকরা আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আশা করছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চাষযোগ্য জমিতে মাঠে মাঠে এখন শুধু আলু গাছের সবুজ রং এর সমরাহ। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া বন্যার কারণে উপজেলায় রোপা-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মাঠে মাঠে রবিশস্যের উপযোগি চাষযোগ্য জমিতে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকরা আলু চাষ শুরু করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ সহ রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে যথা সময়ে বিতরণ করায় এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় কৃষকদের আগাম জাতের আলু লাগানো সম্ভব হয়েছে। 
চলতি রবি মৌসুমে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা ডায়মন্ড, লালপাকরী ও দেশী জাতের আলু লাগিয়েছেন। যথা সময়ে আলু ঘরে তুলতে পাড়লে এবং চাহিদা ও বাজার মূল্য ভাল থাকলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান। 
সূত্রে জানা, চলতি রবিশস্য মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮শ’ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর উপজেলায় প্রায় ১৩শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হচ্ছে। শুরুতেই আলুর ক্ষেতে বন্যার প্রভাবের কারণে নানা ধরনের পোকা-মাকড় দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরী সহযোগিতার কারণে আলু ক্ষেত প্রায় শত ভাগ রোগ-বালাই মুক্ত হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। আগামী ইরি-বোরো ধান উৎপাদনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রান্তিক চাষিরা অন্যের জমি নিয়ে আলু, সরিষা, গম ও ভুট্টা চাষ করছেন। উপজেলা সদর, বড়গাছা, মিরাট, কাশিমপুর, গোনা ও পারইল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আজিজার রহমান জানান, আমি এবছর প্রায় ২বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে ভাল জাতের দেশী আলুর বীজ কিনে জমিতে লাগিয়েছি। দাম ভাল হলে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে পুরোদমে ইরি-বোরো চাষ করতে পারবো। খট্টেশ্বর গ্রামের আলু চাষি সামছুর রহমান জানান, আমি চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে লালপাকরী জাতের আলু লাগিয়েছি। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও রোগবালাই আক্রমন না করলে এবছর আলুর ভাল ফলন পাব বলে আশা করছি। 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, উপজেলায় বিগত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমান আলু চাষ করা হয়েছে। যথা সময়ে জমি চাষ যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকরা সুযোগ বুঝে আলু লাগিয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে না হলে উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। শুধু তাই নয় আলু চাষের জমিগুলোতে কিছু পরিমান উদ্ধবৃত্ত সারের শক্তি থাকায় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষেও এর সুফল পাবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/সু

Link copied!