প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানছেন না শোভন-রাব্বানি!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ২৬, ২০১৯, ০৫:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানছেন না শোভন-রাব্বানি!

ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে ‘বিতর্কিত’দের বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পর বিতর্কিত ওই ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেছিল শোভন ও রাব্বানি নিজেই। তাদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তারা।

তবে এখনো বাস্তবায়ন তা করতে পারেনি ছাত্রলীগ। এমনকি এখনো পর্যন্ত কোনো ধরণের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি তারা। এমনকি ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সেই সব অভিযুক্তরা।

গত ১৫ মে দিবাগত রাত বারটায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। অভিযুক্ত ১৭জ‌নের মধ্যে সহ-সভাপ‌তি তানজিল ভুইয়া তান‌ভীর, সুরঞ্জন ঘোষ, আরেফিন সি‌দ্দিক সুজন, আতিকুর রহমান খান, বরকত হাওলাদার, শাহ‌রিয়ার বিদ্যুৎ, মাহমুদুল হাসান তুষার, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তৌ‌ফিকুল হাসান সাগর, সা‌দিক খান, সোহানী হাসান তি‌থি, মুনমুন নাহার বৈশাখী, দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব, উপ-সম্পাদক রু‌শি চৌধুরী ও আফ‌রিন লাবনী নাম তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলী‌গের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘মু‌ক্তিযুদ্ধের চেতনা বি‌রোধী, বিবা‌হিত, অছাত্র এবং মামলার আসামিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭ জ‌নের নাম আমরা প্রাথ‌মিকভা‌বে পে‌য়ে‌ছি। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের মাধ্যমে পদ শূন্য ঘোষণা বঞ্চিত‌দের স্থান ক‌রে দিব।’

তবে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের সেই ঘোষণার সপ্তাহ পার হলেও অভিযুক্তদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেনি সংগঠনটি। বরং বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে অভিযুক্তদের অনেকের সাথেই আগের থেকে বেশি সখ্যতা দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের। ওই ঘটনার পরপরই কৃষকদের ধান কাটা কর্মসূচির ঘোষাণা দেয় ছাত্রলীগ। ফলে ধান কাটা ইস্যুতে চাপা পড়ে যায় বিতর্কিতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি মুঠোফোনে জানান, গণভবনে ইফতার অনুষ্ঠানে এসেছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। একই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে, ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরপরই কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেয়ার অভিযোগে আন্দোলন করে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ অংশের সদস্যরা। ওই আন্দোলনে হামলা করারও অভিযোগ ওঠে। সেই হামলার বিচারের দাবিতে গত ১৮ মে দিবাগত রাত তিনটা থেকে বৃষ্টিতে ভিজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন তারা। ওই রাতে আবারও ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অনশনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের ওপর হামলা করা হয়। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নিজেই ছাত্রীদের গায়ে হাত তুলেছেন বলে অভিযোগ করেন হামলার শিকার হওয়া ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেত্রীরা। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্ততায় বিবাদ মিটিয়ে ফেলা হয়।

এদিকে মধুর ক্যান্টিনে পদ বঞ্চিতদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। এদের একজনকে স্থায়ীভাবে এবং চারজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। সাময়িকভাবে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন- বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মুরসালিন অনু, জিয়া হল ছাত্রলীগের কর্মী সাজ্জাদুল কবির, কাজী সিয়াম ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য জারিন দিয়া। আর জিয়া হল ছাত্রলীগের কর্মী সালমান সাদিককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার ও জিয়া হল শাখার কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হাসিবুর রহমান শান্তকে দলীয় শৃঙ্খলভঙ্গের অভিযোগে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব তিনদিনের মধ্যে দপ্তর সেলে জানাতে বলা হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

Link copied!