নির্বাচনে অংশ নেবে না কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১০:১৫ পিএম
নির্বাচনে অংশ নেবে না কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা থেকেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সে ধরনের নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো অনুকূল পরিবেশের অভাবের কারণে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসন থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবেও সংসদে গিয়েছিলেন। পরে ২০০৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। এছাড়া ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত নির্বাচনে তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।

এদিকে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণার পর সখীপুর ও বাসাইল এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মতে, কাদের সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও শক্ত ভোটব্যাংকের কারণে এবার তিনি ভালো ফল করতে পারতেন।

সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন বলেন, “এই আসনে কাদের সিদ্দিকীর একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। এবার আওয়ামী লীগও নির্বাচনের মাঠে নেই। এমন পরিস্থিতিতে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতে পারতেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তই শেষ কথা।”

এম

Link copied!