জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতায় মনোনয়ন পাচ্ছেন যারা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম
জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতায় মনোনয়ন পাচ্ছেন যারা

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো জোট ও আসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত নতুন, ছোট কিংবা সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে দলগুলো। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–কে কাছে টানতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আগ্রহ ও তৎপরতা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অংশ শুরু থেকেই জামায়াতের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী সমঝোতার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও অধিকাংশ সদস্য শেষ পর্যন্ত জোট ও আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন। এই বাস্তবতায় এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে জোট গঠনের বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

জামায়াত ও এনসিপি–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জোট গঠিত হলে কোন আসনে কোন দলের প্রার্থী থাকবে, মোট কতটি আসনে এনসিপিকে ছাড় দেওয়া হবে এবং যৌথভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে-এসব বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে। আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত এনসিপির জন্য অন্তত ২০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে।

সমঝোতার আওতায় এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের সম্ভাব্য আসনগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

জামায়াতের এক সূত্র জানায়, এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতার আসন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি আসনগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।

তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এনসিপির ভেতরে মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। এর প্রতিবাদে গত ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী কাউন্সিল সদস্য মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। একই অবস্থান নেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ আরও কয়েকজন নেতা।

জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন। অন্যদিকে একই দিনে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় ১৭০ জন নেতা জোটের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে পৃথক চিঠি দেন, যা দলের ভেতরের বিভক্ত চিত্র স্পষ্ট করে।

এ বিষয়ে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে মতভিন্নতা থাকলেও এনসিপি, জামায়াত ও অন্যান্য সংস্কারপন্থি দলগুলোর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই মিল রয়েছে। নতুন করে রাষ্ট্রকাঠামো গঠনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারই জোট বা সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে আখতার হোসেন জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংস্কার, আসন সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট নিয়ে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আট দলের জোটের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার অংশ হিসেবেই এনসিপির সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।

সব মিলিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোটের সম্ভাব্য ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। আজকের সিদ্ধান্ত এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ 

Link copied!