আত্মগোপন থেকে পলায়ন: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের আট মাসের লুকোচুরির গল্প

  • সোনালী ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
আত্মগোপন থেকে পলায়ন: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের আট মাসের লুকোচুরির গল্প

ফাইল ছবি

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে যেমন আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, তেমনি দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন কেউ কেউ। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. একে আব্দুল মোমেন। আট মাস দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে নিজের পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ড. মোমেন। দেশের এক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি দেশেই ছিলেন এবং পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার পর অন্য মন্ত্রী–এমপিদের মতো তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আট মাস ধরে একাধিক ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছেন। পরিচিত আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাননি, কারণ তারা সবাই প্রকাশ্যে পরিচিত। ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন, ছয়বার মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন এবং চেহারায়ও পরিবর্তন এনেছেন। নিরাপত্তার জন্য দাড়ি রেখেছেন, যাতে বাইরে বের হলেও কেউ সহজে চিনতে না পারে।

ড. মোমেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই ছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। তখন তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কারণ নিজের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ দেখেননি। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।

তিনি জানান, বাসায় নাপিত ডেকে চুল ও দাড়ি কাটানোর মতো সাধারণ কাজও করতে হয়েছে অন্যের বাড়িতে, যেন পরিচয় ফাঁস না হয়। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। তার ভাষায়, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে সিনেমা বানানো গেলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ গল্প হয়ে উঠতে পারে।

কীভাবে দেশ ছেড়েছেন-এই প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। শুধু ইঙ্গিত দেন, এটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন একটি প্রক্রিয়া। বিমানবন্দর ব্যবহার করা সম্ভব ছিল না বলেও জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্নভাবে পালিয়ে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন এবং এই প্রক্রিয়ায় কিছু সরকারি লোকও সহায়তা করেছেন, সে কারণেই এখনই বিস্তারিত বলতে চান না।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে ড. মোমেন বলেন, তিনি নিজেকে সাদাসিধে মানুষ মনে করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ বা অস্থিতিশীলতার দিকে যেতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দেশকে রক্ষা করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এসএইচ 
 

Link copied!